জিবনের প্রতি ক্লান্ত বিরক্ত দামিনি আজই রাজারহাটের এই ফ্ল্যাট শিফট করেছে । ২০বছর বয়সী মেয়েটার জীবন যেন ১০ টা ৫ টা চাকুরির মধ্যে আটকে গেছে । এই পৃথিবীতে ওর পরিবার বলতে শান্তিণিড় অনাথ আশ্রম এড় ৩২৭ জন বাচ্চা। জন্মের পরেই নাকি ওর বাবা মা ওই অনাথ আশ্রম এর দরজায় ফেলে রেখে চলে গেছিল।হয়ত নিজেদের কামনা পূর্তির উন্মাদনায় মেতে বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সিন্ধান্ত নিয়ে ফেলে আর জখন সেই বাচ্চার দায়িত্ব নেওয়ার সময় আসে তখন সে দায়িত্ব এভাবেই কাধ থেকে ঝেড়ে ফেলে দেয় । তাই জন্ম থেকেই ও অনাথ । ডিসটেনসে পড়াশুনা চালানোর পাশাপাশি ৯-৫ টা ডিউটিতে আটকে রেখেছে নিজেকে এই অনাথ আশ্রমের বাচ্চাদের জন্য। ছোটবেলায় এই অনাথ আশ্রম তাকে নতুন জীবন দিয়েছিল তাই আজ অর মতই বাকি অনাথ দের জন্য অ কিছু করতে চায়। তবে ও নিজের আশেপাশের মানুষদের থেকে একটু দূরে দূরে থাকে। এই পুরো পৃথিবীটাকে ওর স্বার্থপর বিশ্বাসঘাতক মনে হয় । হবেই না বা কেন ? জন্মের সাথে সাথেই তো সব থেকে কাছের মানুষ দুটোই সব থেকে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে । তাই ছোট থেকেই দামিনি একটু খিটখিটে টাইপের । একটু একাচরা। নিজের মতই থাকতে বেশি ভালবাসে। সবার থেকে দূরে দূরে । সেটা কাজের জায়গা হোক বা পড়াশুনার জায়গা বা সেটা থাকার জায়গা ।
এই একাচরা থাকার জন্যই মেস ছেরে দিয়ে ফ্ল্যাট টায় এসে উঠেছে । বলাবাহুল্য এই ফ্ল্যাত টা অনেক কম দামে পেয়ে গেছে তাই আর হাতছারা করেনি। এখান থেকে কাজ করা সুবিধা বেশ ওর । অফিস টা এই ফ্ল্যাট থেকে খুব এক্ টা দূরে নয় ।
ফ্ল্যাটটা এত কম দামে পাওয়ার কারন টা খুব অদ্ভত। এপার্টমেন্টের এই ফ্ল্যাট টায় নাকি ওর আগে আরও ৮জন মেয়ে এসেছিল থাকতে কিন্তু প্রত্যেকেই নাকি বেডরুমের পাখার সাথে গলায় দরি লাগিয়ে আত্যহত্যা করেছে । সুইসাইডের কোন কারন কেউ জানতে পারেনি । তবে এখানে আসার কিছুদিনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায় ।
দামিনি সব কিছু জেনে শুনেই এই ফ্ল্যাটটা কিনেছে । দামিনি মনে করে এই সুইসাডের পিছনে ওদের হয়ত পার্সোনাল কারন আছে । আজকালকার দিনে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করলেই পস্তাতে হয়।
যে পৃথিবীতে নিজের বাবা মাইনিজের হয়না সেখানে অন্য কেউ কি করে নিজের হবে।এই জন্যই তো ও সবার থেকে দূরে দূরে থাকে । কারোর সাথেপাছেও নেই । কিন্তু একটা জিনিস ওর কাছেও অদ্ভুত লাগছিল। এই ফ্ল্যাট টায় কেন মেয়েরাই থাকতে আস্ত।আর মেয়েরাই কেন সুইসাইড করত।
যাই হোক অন্যকে নিয়ে অ বেশি মাথা ঘামাতে চায়না । তাই এইসব নিয়ে ভাবা বন্ধ ক্রে নিজের লাগেজ খালি করে আলমারি গুছানোর কাজে মন দিল । আজ ও অফিস ছুটি নিয়েছে ।
বেলা গড়িয়ে এলো সব গুছগাছ করে নিতে। দামিনির পেতে জেন এখন সব ইদুর ছুঁচো দউরাচ্ছে । কিন্তু তারাতারি করাতে কোন খাবার সাথে করে আনা হয়নি । তাই আপাতত এখন নিজের খিদেটা মারার জন্য ব্যাগ থেকে কফি মগ তা বের করে ইনডাকশণে কফি বানিয়ে নিল ।
বেডড়ূমের জানালার পাশে হাতে কফি মগ নিয়ে দারিয়ে দামিনি । দুপুর গরিয়ে সন্ধ্যা নামবো নামবো করছে
পশ্চিম আকাশ সিঁদুর রঙ্গে রাঙ্গিয়ে দিয়ে সূর্য এখন অস্তাচলের পথে । ঘরে ফিরছে দলে দলে পাখির ঝাঁক ।
এ ঘরটাই ত দামিনির নেই । ঘর পরিবার ও আপনজন কিছুই দামিনির নেই । তাই ঘরে ফেরার তাড়া টুকু নেই।
দামিনির ঘরের জানলা দিয়ে বাইরে তাকালেও এই কলকাতা শহরের বুকেও সবুজের হাতছানি দেখা যায় ।
Comments
Post a Comment