নিশির ডাক ----নবনিতা চক্রবর্তী

 

2nd part

সুরেশ যখন মাঠে  পোঁছাল  ওর ঘোর কাটল একটা ঠাণ্ডা  হাওয়ার ঝাঁপটায় ।

কিন্তু কোথায় সুরেশ ? কোথায় কে ? ওর আশে পাশে কেউ কোথাও নেই ।

 বলদ গুলো যেন  নিজদের দড়ি থেকে ছাড়ানোর জন্য লাফালাফি করতে লাগল । হঠাত একটা ঠাণ্ডা হাওয়ার সাথে  ওর কানে ভেসে এলো ওর ছেলের আওয়াজ । কিন্তু আওয়াজটা কেমন যেন নেকী সুরে আসছে। 

বাবা'''''''''/ হি হি হি হি হি হি হি হি হি 

তারপরেই চখের সামনে সব কিছু অন্ধকার হয়ে গেল সুরেশের । লুটিয়ে পড়ল মাটিতে

ভোরের আলো ফুটতেই কিছু গ্রামবাসীর ডাকাডাকিতে  চো খখুলল সুরেশ । চোখ খুলতেই ভোরের আলো এসে বিঁধল ওর  চোখে ।

 দু হাতে চোখ ঢেকে নিতেই মনে পড়ল গত রাতের ঘটনা । কিভাবে একটা ক্ষীণ গলার স্বর কে অনুসরণ করে  ও এখনে এসে পোঁছাল । 



ধরফরিয়ে উঠে বসল সে । চারদিকে তাকিয়ে ও যা দেখল তাতে তার  হৃদপিণ্ড বেরিয়ে আসার মত । ও বসে আছে ওর জমির উপর । দুটো বলদের মধ্যে একটির মাথার শিং দুটো  মাটির তলায়  গেথে গেছে ।ওই শিং এর উপর ভর করে পুরো শরীরের উপর ভর করে  শূন্য অবস্থায়  ঝূলে আছে । আরেকটা বলদের ধর থেকে মাথা আলাদা । মাথাটা আধ খাওয়া অবস্থায়পরে আছে একটু দূরে । পাড়ার লোকজন ওরে ধরে বাড়ি নিয়ে আসল ও সবাইকে সবকিছু খুলে বলল । পাড়ার লোকজন জানায় ওই বাঁশঝাড়ের নিচে আগে অপঘাতে যারা মারা জেট তাদের কবর দেওয়া হত । জায়গা টা ভালনা । আর এভাবে কারো ডাকে সাড়া দিতে নেই । নিশি ডাকে । সেই রাতে একা বেরোতে নেই । তবে সুরেশের ভাগ্য ভাল নিশির ডাকে সুরেশ একা বের হয়নাই সাথে বলদ ২টাকে নিয়ে গেছে । নাহলে আজকে অইবলদ গুলর জায়গায় অ থাকত । সবার কথা শুনে  সুরেশের যেন ভিতর দিয়ে ঠাণ্ডা রক্তের স্রোত বয়ে গেল । এসব কথায় সে কোনদিন বিশ্বাস করতনা  কিন্তু গত দুদিনে ও নিজের চোখে যা দেখল যা শনল তাতে ওর বিশ্বাসের সমীকরণ টাই বদলে গেছে । 

সমেশের চলে যাওয়াতে সুরেশ এখন একদম একা হয়ে গেছে । সেদিনের পর থেকে আজ ও  সে পরিষ্কার শুনতে পায়  নেকি গলায় ওর ছেলের ডাক । 

বাবা  ও বাবা......... ওঠ / জল দেওয়ার সময় যে বয়ে জায় । হি হি হি হি হি হি হিহ ই


নিশি আজ ও ডাকে সুরেশ কে .........শুধু  আজ ও সারা দেয় না ............।

                                                 সমাপ্ত

Comments