আনুপম ছূট্ট থেকেই সান্তাক্লজ পরী ভুতের গল্প কথায় বিশ্বাস করত্ না । মা মরা অনুপমের বাবা ছাড়া আর কেউ ছিলনা । বাইরের নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে অনুপম সবসময় নিজেকে একটু আলাদা করে রাখত তার ফলে সে রকম ভাল বন্ধু তার জীবনে ছিল বলে মনে নেই । সেই ছোট্ট বেলা ২৫ শে ডিসেম্বর রাতেরবেলা কেউ ওর মাথার পাশে লাল টুপিতে মুড়ে কিছু না কিছু উপহার রেখে যেত । কখনো চকলেট কখনো বই খাতা কলম পেন্সিল আবার কখনোবা হাতঘড়ি দিয়ে যেত । অনুপমের বাবা একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে সামান্য বেতনের চাকুরি করে । অনুপম খুব ভাল ক্রেই জানত অর মাথার কাছে ২৫শে ডিসেম্বর শুরুর রাতে যেই সান্তাক্লজ উপহার রেখে জায় সে আর কেউ না সে তার বাবা । নিজের সামান্যতম বেতন থেকে একটু একটু করে সঞ্চয় করে প্রতিবছর কিছুনা কিছু উপহার কিনে আনতেন। ওর জিবনে বাবা মা ভাই বোন বন্ধু এমনকি ওর সান্তাক্লজ টা ওর বাবাই ছিল। তিন বছর হল ওর বাবা আজ আর অর সাথে নেই । একদিন কাজ থেকে বাড়ী ফেরার পথে পথ দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে উনি মারা যান আর তারপরেই বাধ্য হয়ে নিজের পড়াশুনা ছেরে চাকরি খুজতে হয়েছে ।
১৮ বছরের অনুপম সেদিন বাবার ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর সাথে একাই লড়াই করার সিন্ধান্ত নিয়েছিল । আজ ২৫ শে ডিসেম্বের ।বাবাকে ছাড়া কাটান ৩য় বড়দিন । ভোরের প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে ছাদের কিনারায় দাড়িয়ে ভোরের আলো ফুটতে দেখছে অনুপম । হাতে ধরে থাকা লাল টুপি । তাতে আছে একটা হাত ঘড়ি আর একটা রোদ চশমা । আগের ঘড়িটা পরশুদিন ই হাত থেকে পরে ভেঙ্গে যায় । আর রোদে কাজে যেতে চোখটাতে অসুবিধা হচ্ছিল কদিন ধরে । বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে কোনদিন ই বড়দিনের উপহার পাওয়া বন্ধ হয়নি ।প্রত্যেক বছর একই রকম ভাবে বড়দিনে ওর কোন না কোন দরকারি জিনিসটা উপহার হিসেবে অর মাথার কাছে রেখে যায় । এই বছর ভেবেছিল কে উপহার রেখে যায় তা দেখবে কিনতু পারেনি । দু মিনিটের জন্য ঘুমিয়ে পরেছিল অনুপম। আর ঠিক তখনই এসেছিল ওর সান্তা । সেই তখন থেকে উপহার টা হাতে নিয়ে ছাদের কিনারায় দারিয়ে আছে আকাশের দিকে তাকিয়ে অনুপম। দিনের আলো ফোটার সাথে সাথে চারদিকে ঘন কুয়াশার সাদা চাদর যেন ঘন হতে লাগল। অনুপম ভাবে ওর বাবা কি শরীরী অবয়ব ছেরে চলে গেলেও ওর পাশে আজও সান্তাক্লজ হয়ে রয়ে গেল । নাকি এটা শুরু থেকে সত্যি কোন সান্তাক্লজ ছিল ?
একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল ভিতর থেকে ।
আমার সান্তাক্লজ যেখানে থেক ভাল থেক।
Comments
Post a Comment